‘২২ ছাত্র কেন ক্ষমা পাবে না?’

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | শনিবার, আগস্ট ১১, ২০১৮
‘২২ ছাত্র কেন ক্ষমা পাবে না?’

তিন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থী কেন ক্ষমা পাবে না এমন প্রশ্ন তুলেছেন তাদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘নিপীড়ন-বিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থী’দের ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়।

গত ৬ আগস্ট আফতাবনগর এবং বসুন্ধরা এলাকায় সড়ক অবরোধ করতে আসা তিনটি বেসরকারি ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশ ও বহিরাগতদের সংঘর্ষ হয়। এরপর পুলিশ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে আর দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয় বৃহস্পতিবার।

এরই মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা এই শিক্ষার্থীদেরকে সাধারণ ক্ষমা করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে মন্ত্রী জানান, এই বিষয়টি তার এখতিয়ারে নেই।   

শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচিতে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অভিমিতা স্বর্ণা বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যাররা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষমা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু এই অনুরোধ অগ্রাহ্য করে এই আন্দোলনের কারণে ২২ শিক্ষার্থীকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পর তারা এখন কারাগারে আছে।’

‘চোর বাটপার খুনিরা সাধারণ ক্ষমা পেলে ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবির পক্ষে আন্দোলনকারীরা কেন ক্ষমা পারে না?’

যে ২২ শিক্ষার্থী আটক হয়েছে, তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ হওয়ার দুই দিন পর সড়কে অবস্থান নিতে গিয়েছিলেন। তবে ছোটদের আন্দোলনের সময় পুলিশ নমনীয় থাকলেও টানা এক সপ্তাহের অচলাবস্থার পর বড়দেরকে সড়কে অবস্থান করে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাতে দিতে রাজি ছিল না পুলিশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সারারাত মারধর করে পরের দিন থানায় ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা গিয়ে প্রক্টর স্যারের কাছে তাদের ছাড়িয়ে আনতে অনুরোধ করি। স্যার প্রথমে রাজি না হওয়ায় আমরা তাকে বলি যে আপনি থানায় ফোন না করা পর্যন্ত আমরা এখান থেকে যাব না। এরপর তিনি বাধ্য হয়ে থানায় ফোন করেন এবং সেখান থেকে সেই শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হয়।’‘আমি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনারা আপনাদের শিক্ষকদের নিয়ে যান, চাপ সৃষ্টি করে আপনাদের সঙ্গীদের মুক্ত করে আনুন।’২২ শিক্ষার্থীর নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেয়া হয় মানববন্ধনে। এর পাশাপাশি নিরাপদ সড়কের জন্য শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তোলা সব দাবি মেনে নেয়ার আহ্বানও জানানো হয় মানববন্ধনে।