অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ছবি তুলায় সাংবাদিককে কুপিয়ে আহত

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি■ | রবিবার, আগস্ট ১২, ২০১৮
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ছবি তুলায় সাংবাদিককে কুপিয়ে আহত

 নড়াইলের অবৈধভাবে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন ও নদী ভাঙনের ছবি তুলতে গিয়ে দৈনিক খবরের জেলা প্রতিনিধি শেখ ফসিয়ার রহমান (৫২)কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক রবিউল ইসলাম খানের লোকজন। ফসিয়ার রহমানের সঙ্গীয় প্রশান্ত কুমার দাশ (২৫)কেও পিটিয়ে আহত করে। এ সময় দৈনিক খবরের সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। রোববার দুপুরে কালিয়া পৌরসভার বড় কালিয়া সড়কের ওপর এ ঘটনা ঘটে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, সাংবাদিক ফসিয়ার রহমান নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

গুরুতর আহত সাংবাদিককে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত সাংবাদিক জানান, রোববার (১২ আগষ্ট) দুপুর সাড়ে বারটার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে নবগঙ্গা নদীর নাওরা নামক স্থানে অবৈধভাবে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে যায়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পশ্চিম পাড়ে শুক্ত গ্রামের গুচ্ছ গ্রামের বিশাল অংশ জুড়ে ভাঙনেরও ছবি ক্যামেরায় ধারণ করেন। এ সময় রবিউল ইসলাম খানের সঙ্গীয় বালু ব্যবসায়ী মির্জাপুর গ্রামের আহমেদ শেখের ছেলে তাজু শেখ ছবি তুলতে নিষেধ করেন এবং রবিউলের (যুবলীগ নেতা) সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে বলেন। এক পর্যায় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর মোটর বাইকযোগে ফেরার পথে বড়কালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে সড়কের ওপর শেখ ফসিয়ার রহমানকে গতিরোধ করে ধারালো দা ও লাঠিসোঠা নিয়ে হাড়িডাঙ্গা গ্রামের মুজিবর মোল্যার ছেলে তারিক মোল্যা, মোশারফ ব্যপারীর ছেলে বালা, হোসেন থান্দারের ছেলে মিশকাত ও নাওরা গ্রামের মৃত শংকর ঘোষের ছেলে অনির্বাণ ঘোষসহ (ছৈন ঘোষ) ১০/১২ জনের একটি দুর্বৃত্ত দল আক্রমণ করে পিটিয়ে ও মাথায় কুপিয়ে আহত করে।

সাংবাদিকের সঙ্গে থাকা প্রশান্ত কুমার দাশকেও পিটিয়ে আহত করে। পথচারীরা উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় সাংবাদিক ফসিয়ার রহমানকে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্সে ভর্তি করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবগঙ্গা নদীর বৃহাচলা নামক স্থানে বালু উত্তোলনের ইজারা নেয় উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক রবিউল ইসলাম খান। কিন্তু ইজারাকৃত নির্দিষ্ট স্থানে বালু উত্তোলন না করে তাঁর লোকজন অন্যত্র বালু উত্তোলন করছে। ভাঙনের বিপরীতে নিয়মিত ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় তীব্র আকারে নদী ভাঙছে। এটি সাংবাদিক ফসিয়ার ক্যামেরায় ধারণ করতে গেলে বালু উত্তোলনকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর হামলা করে হত্যা চেষ্টা করে। ইতিপূর্বে এই বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভাম্যমান আদালত একাধিকবার জরিমানা করেন।

এ প্রসঙ্গে নড়াইলের কালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিমুল কুমার দাশ আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, ‘কালিয়া হাসপাতালে ভর্তি আহত সাংবাদিক ফসিয়ার রহমানের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিবরণ জানা হয়েছে। সেই মোতাবেক জড়িতদের গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’ একই প্রসঙ্গে নড়াইল পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন(পিপিএম),আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই আমি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।’ কালিয়া উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক রবিউল ইসলাম খান আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান,‘কে বা কারা সাংবাদিক ফসিয়ার রহমানকে মারধর করেছে তা আমার জানা নেই। আমি বা আমার কোন লোকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।