দারিদ্র্য পিছু ছাড়ছে না ঋষিপল্লীর পরিবারগুলোর!

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল ডিসটিক করেসপন্ডেন্ট | সোমবার, আগস্ট ২৭, ২০১৮
 দারিদ্র্য পিছু ছাড়ছে না ঋষিপল্লীর পরিবারগুলোর!

 প্লাস্টিকের দাপটে ধুঁকছে বাঁশ ও বেতের শিল্প। ফলে দারিদ্র্য পিছু ছাড়ছে না নড়াইলের ঋষিপল্লীর পরিবারগুলোর। তবে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের কল্যাণে অনেকেই এরই মধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন, মুদি দোকান অথবা বাঁশ ও বেতের জিনিস তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছে তারা। জেলার তিনটি উপজেলার স্বল্প আয়ের মানুষ এ প্রকল্প থেকে এভাবে লাভবান হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক সমিতি রয়েছে।

সমিতির ৬০ সদস্যের মধ্যে ৪০ জন নারী ও ২০ জন পুরুষ। প্রতি সদস্য সপ্তাহে ৫০ টাকা জমা করে, দুই বছরে ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা জমা হয়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে আরো সমপরিমাণ অর্থ অনুদান দেয়া হয়। বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে আরো কিছু টাকা যোগ হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ টাকা তহবিল থেকে সমিতির সদস্যদের মধ্যে ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়। এক বছরের মধ্যে ওই ঋণ পরিশোধ করে পুনরায় আরো বেশি টাকা ঋণ নেয়া যায়। সদর উপজেলায় এ রকম ২১৮টি সমিতি রয়েছে, আর মোট সদস্য সংখ্যা ৯ হাজার ৩৩৯। সব সমিতি মিলিয়ে মূলধন রয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। ঋষিপাড়া সমিতির সদস্যরা এ প্রকল্প থেকে ঋণ নিয়ে বাঁশ ও বেতের জিনিস তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সমিতির সদস্য গৌতম বিশ্বাস বলেন, এখান থেকে ঋণ নিয়ে বাঁশ ও বেত কিনে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করি আমরা। এখান থেকে খুলনা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, যশোরসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান। কার্তিক থেকে আষাঢ় পর্যন্ত খুব বেশি কাজ থাকে। এ সময় জিনিসপত্র বানিয়ে সংরক্ষণ করা হয়, বিক্রি হয় সারা বছর। সমিতি থেকে টাকা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন ঋষিপাড়ার দিপু কুমার বিশ্বাস ও তার স্ত্রী উন্নতি রানী বিশ্বাস। তারা জানান, বেত থেকে ধামা, পালা, সের, পোয়ে তৈরি করেন তারা। প্রতি পিসে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ হয়। দিনে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারেন তারা।

গৌর বিশ্বাস ও তার স্ত্রী বাসন্তী বিশ্বাস বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনই এ সমিতির সদস্য। এখান থেকে ১০ হাজার টাকা করে ঋণ নিয়ে বাঁশ কিনে বিভিন্ন জিনিসপত্র বানিয়ে হাটে বিক্রি করেন। এ দিয়ে সংসারের খরচ, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহ করছেন। সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের পুরস্কারপ্রাপ্ত সদস্য বিশ্বনাথ দাস, আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, ২০১৩ সালে প্রকল্প থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সাইকেল-ভ্যান মেরামতের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পাকা ভবনে নতুন করে গ্যারেজ শুরু করেছেন। এ থেকে যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে তার সংসার বেশ ভালোভাবেই চলছে।

এ প্রকল্পের সদর উপজেলা সমন্বয়কারী মনিরুজ্জামান, আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, অন্যান্য সমিতি বা এনজিও তাদের ঋণের কিস্তির জন্য অনেক চাপাচাপি করে। এখানে সদস্যরা স্বাধীনভাবে তাদের সমিতি থেকে ঋণ নিতে ও জমা দিতে পারেন। প্রতি সদস্য তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা হলে মোবাইলের গোপন পিন কোডের মাধ্যমে টাকা তুলে নেন। কিস্তির কত টাকা তিনি জমা দিচ্ছেন, তাও সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ কারণে এখানে লেনদেন একেবারে স্বচ্ছ থাকছে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি