কক্সবাজার সৈকতে লাখো পর্যটকের মিলনমেলা

কক্সবাজার প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, আগস্ট ২৮, ২০১৮
কক্সবাজার সৈকতে লাখো পর্যটকের মিলনমেলা
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ঈদ আনন্দ যেন কোনভাবেই শেষ হচ্ছে না। ঈদের ছয় দিন অতিবাহিত হলেও লাখো পর্যটকে মুখরিত বালুকাময় সৈকত।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটকের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন স্পট ডুলাহাজারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, দরিয়ানগর, পাহাড়ি ঝর্ণা হিমছড়ি, পাতুরে বিচ ইনানি ও রামুর বৌদ্ধপল্লীতেও ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড় জমে ছিল। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চালু হয়নি দেশের প্রসিদ্ধ প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন নৌ-রুটের জাহাজ চলাচল।

এদিকে ঈদের পরদিন থেকে শতভাগ পরিপূর্ণভাবে হোটেল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজসহ কটেজগুলিতে কোন রুম কিংবা কক্ষ খালি নেই। কারণ এবারে ঈদের ছুটির সাথে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় ব্যাপক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। পাশাপাশি বর্তমানেও পর্যটকে ভরপুর রয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, শহরের কলাতলীর সৈকত ঘেঁষে এক থেকে দুই বর্গকিলোমিটারের মধ্যে তারকা মানের ১০টির অধিকসহ প্রায় দুই সহস্রাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ ও ফ্ল্যাট রয়েছে। পুরনো শহরের ভেতর রয়েছে আরও ৩০টির অধিক হোটেল। সবমিলিয়ে কক্সবাজারে আড়াই লাখের বেশি পর্যটকের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে কক্সবাজারে।

টুয়াক কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, এবারে অধিকাংশ পর্যটকের আগ্রহ ছিল প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের প্রতি। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল চালু না হওয়ায় পর্যটকের প্রসিদ্ধ প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সুযোগ হয়নি। তবে দেশি বিদেশি পর্যটকদের প্রধান আর্কষণ বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত এলাকায় ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের সমুদ্রস্নান ও পর্যটন স্পটে নিরাপদে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, লাইফ গার্ড, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ। পাশাপাশি সর্বক্ষেত্রে নিয়ম-কানুনও মানতে পর্যটকদের প্রতি পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে আগত পর্যটকরা ভিড়ের মাঝে যাতে কেনো অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার না হন তারই লক্ষ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জুরদার করেছে। সৈকতের নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা থাকছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

লাইভ গার্ডকর্মী ছৈয়দ নুর বলেন, পর্যটকরা সাগরে গোসলে নামার আগে পর্যটকদের জোয়ার-ভাটার সময় দেখে নেয়ার পরামর্শ সম্বলিত নির্দেশনা রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের। সে বিষয়সহ সর্বাক্ষণ লাইভ গার্ডের নজরে থাকছে গোসলে নামা পর্যটকরা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, টানা ছুটি থাকায় কয়েক লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসবেন এমনটা ধরে নিয়েই কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে ছিনতাই, ইভটিজিং, হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া প্রদানের শিকার না হন সেটি নিশ্চিত করণে র‌্যাব, পুলিশের ৪৫০ জন সদস্য পর্যটন এলাকা ঘিরে কাজ করছে। পাশাপাশি রয়েছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের টিমও।