বাবা মানিকের রাজনীতির পাশে থেকেই মানুষের সেবা করবেন রত্নগর্ভা কেন্দুয়ার প্রথম ব্যারিষ্টার দোলা

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা কেন্দুয়া | মঙ্গলবার, আগস্ট ২৮, ২০১৮
বাবা মানিকের রাজনীতির পাশে থেকেই মানুষের সেবা করবেন রত্নগর্ভা কেন্দুয়ার প্রথম ব্যারিষ্টার দোলা
 নেত্রকোনার রত্ন গর্ভা কেন্দুয়ার আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র আগামীর স্বপ্ন প্রথম ব্যারিষ্টার অদিতি রহমান দোলা। মুক্তিযোদ্ধা বাবার রাজনীতির পাশে থেকেই মানুষের সেবা করবেন কেন্দুয়ার এই প্রথম ও নারী ব্যারিষ্টার দোলা। উচ্চ শিক্ষার কোন মোহ এবং অহংবোধই তাকে প্রভাবিত করতে পারেনি। সংস্কৃতির পরিমন্ডলে রেড়ে ওঠা সদা হাসিমুখ নিরহংকার অদিতি রহমান দোলা নেত্রকোনা জেলার ঐতিহ্যবাহী কেন্দুয়া উপজেলার প্রথম এবং নারী ব্যারিষ্টার হয়ে কৃতিত্বের সেই বিজয় মুকুট পরেছেন তিনি।

 ব্রিটিশ ভারত আমল থেকেই কেন্দুয়া এক গর্বিত ঐতিহ্যের অধিকারী হয়ে আসলেও ব্যারিষ্টার অদিতি রহমান দোলা তার যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে তিনি প্রথম ব্যারিষ্টার হিসেবে কেন্দুয়ার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে আরো সুষমা মন্ডিত করে তুলেছেন। যোগ্য বাবার যোগ্য সন্তান তিনি। আগামীর সুন্দরের পথ ধরে বাবার রাজনীতির পাশে থেকে মানুষের সেবা করে চলবেন তিনি রত্ন গর্ভা কেন্দুয়ার এই মাটিতে। কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের কুনিহাটি গ্রামের সম্ভ্রান্ত খান পাঠান মুসলিম পরিবারে তার পৈতৃক নিবাস। তার বাবা মা বহুগুণে গুনান্বীত অনেক প্রতিভার অধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মো: সাইদুর রহমান মানিক এবং মা কুষ্টিয়া ভেড়ামারা নির্বাচনী এলাকার প্রাক্তন এম.পি রাজা জহুরুল হকের কণ্যা বাংলাদেশ সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব আকলিমা জহির রিতা।

অদিতি রহমান দোলা বলেন, আমার বাবা মো: সাইদুর রহমান মানিকের জীবনে সবচেয়ে দুটি বড় অর্জন নিয়ে আমি খুবই গর্বিত। এর প্রথমটি ১৯৭১ সনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে ছিলেন, করেছেন পাক হানাদার বাহিনীর মোকাবেলা। দ্বিতীয়টি ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট কালো রাতে স্বাধীন বাংলার মাটি থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুজিব আদর্শকে মুছে ফেলতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ স্বপরিবারে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যার পর কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্বদানকারীদের একজন আমার বাবা মো: সাইদুর রহমান মানিক। এই দুটি অর্জন মো: সাইদুর রহমান মানিকের জীবন বাংলাদেশের গৌরব গাঁথা ইতিহাসের পাতায় সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
কেন্দুয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে ১৮ আগস্ট চিরঞ্জীব মুজিব ও আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভার প্রধান আলোচক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি গীতিকার মো: নূরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেছেন, হোসেন শহীদ সোহরওয়ার্দী, শের-ই-বাংলা এ.কে.ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মতো জাতীয় নেতারা সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন কিন্তু বাংলাদেশকে পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ ডাক দিয়েই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী উপধীতে ভূষিত হয়েছেন। তারই যোগ্য কণ্যা শেখ হাসিনা বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে হাত দিয়েছেন। একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা স্বরনার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মাদার অব হিউম্যানিটি উপাদিতে ভূষিত হয়ে বাংলাদেশের গৌরবগাথাঁ ইতিহাসকে বিশ্ব ইতিহাসে আরো এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছেন।

কেন্দুয়া উপজেলা ঝংকার শিল্পীগোষ্ঠির সভাপতি গীতিকার মো: ফজলুল রহমান দাবী করে বলেন, এমনিভাবে সেদিনের ছাত্র যুবক মুক্তিযোদ্ধা মো: সাইদুর রহমান মানিক তার সহকর্মীদের নিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়ে সাহসী বীর পদকে ভূষিত হয়েছেন। আজ তারই কণ্যা অদিতি রহমান দোলা তার মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে কেন্দুয়ার প্রথম এবং নারী ব্যারিষ্টার হয়ে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে আরো এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছেন। তিনিই যোগ্য বাবার যোগ্য কণ্যার দাবীদার। কেন্দুয়ার আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র।  

বাংলাদেশের দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি ভাটি বাংলার সার্দুল এডভোকেট মো: আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ¯েœহ ধন্য ও খুব কাছের মানুষ হিসেবে সমাজে পরিচিতি লাভ করে চলছেন কেন্দুয়া উপজেলা সমিতি ঢাকা এবং ঢাকা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ আইনজীবি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধা মো: সাইদুর রহমান মানিক। তিনি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা- ৩ কেন্দুয়া-আটপাড়া নির্বাচনী এলাকার দু:খি মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে চান। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে যিনি নিজেকে একজন অসাম্প্রদায়িক এবং সার্বজনীন ব্যক্তি হিসেবে সমাজের সকল মহলে উপস্থাপন করতে পেরে এক বছরেই ঘরে ঘরে নৌকার গণ জোয়ার গড়ে তুলতে বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তার পাশে থেকেই মানুষের সেবা করতে চান ব্যারিষ্টার অদিতি রহমান দোলা।

ঈদ উপলক্ষ্যে এসেছিলেন কেন্দুয়ার কুনিহাটি গ্রামের তার বাবার পৈতৃক বাড়িতে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৫ আগস্ট এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলায় হতাহতদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত জনতার সঙ্গে বাবা ও কণ্যার আথিতেয়তা কেন্দুয়া-আটপাড়া উপজেলা থেকে আগত দলীয় নেতাকর্মী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের নজর কারে। জানতে চাইলে এক প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিষ্টার অদিতি রহমান দোলা বলেন, মা বাবার অনুপ্রেরনায় আমি ব্যারিষ্টার হতে পেরেছি। আমার বাবা আমার জীবনের আদর্শ। মা আমার প্রেরণার উৎস। আমি খুব আনন্দিত বাবা সাইদুর রহমান মানিক তার শেষ জীবনে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে গ্রামের মানুষের সেবা করতে ছুটে এসেছেন তিনি। আমার বাবার জীবনে চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নেই। এখন মানুষের সেবা করাই তার বড় চাওয়া পাওয়া। বাবার রাজনীতির পাশে থেকে সেবা মূলক কাজকে সহযোগিতা করতে চাই। আমিও চাই বাবার নেতৃত্বে এ অঞ্চলের দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে।