নোবেল হারানোর ভয় নেই সু চির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩০, ২০১৮
নোবেল হারানোর ভয় নেই সু চির
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে জাতিসংঘ। এছাড়া দেশটির কার্যত সরকার প্রধান অং সাং সু চিকে ব্যর্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রকাশের পর আবারও সুচির নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুচির নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ।

সোমবার জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রকাশের পর বুধবার এই বার্তা দেয় নরওয়ের নোবেল কমিটি। নোবেল কমিটির সেক্রেটারি ওলাভ এনজোয়েলটাড জানিয়েছেন, পদার্থ, সাহিত্য, শান্তি বা যেকোনো ক্ষেত্রেই কাউকে নোবেল দেওয়া হয় তার অতীত কোনো অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতার লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ সু চি ১৯৯১ সালে এই পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের অনুমতি নেই বলেও জানান তিনি।

১৯৯১ সালে মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে শান্তিতে নোবেল পান অং সান সু চি। বর্তমানে দেশটির সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সু চি। কিন্তু গত বছর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালানোর সময় কার্যত কোনো ব্যবস্থায় গ্রহণ করেননি সু চি। সেসময় সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনটিতে কয়েকশ' মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার বিষয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করে। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে জাতিসংঘের দিক থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর ভাষায় নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছে।

রাখাইন অঞ্চলে প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকির তুলনায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ অনেক বেশি অসম ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের শীর্ষ ছয় সামরিক কর্মকর্তার বিচার হওয়া প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা থামানোর জন্য হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হওয়ায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি'র কড়া সমালোচনাও করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

এছাড়া, ঘটনা বিচারের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনে।

এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সামরিক প্রয়োজনে নির্বিচারে হত্যা, গণধর্ষণ, শিশুদের ওপর হামলা এবং পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেবার বিষয়টি কখনো সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।’

এ প্রতিবেদনে রাখাইন অঞ্চল ছাড়াও মিয়ানমারের কাচিন এবং শান অঞ্চলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওইসব এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্রও উঠে এসেছে জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনে।