টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ফের ‘সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ’

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | শনিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮
টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ফের ‘সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ’
টাঙ্গাইলে ফের চলন্ত বাসে এক তরুণীকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাসটির চালকের সহকারী নাজমুলকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে বাসের সুপারভাইজার বিশু, চালক আলম ঘটনার পর পলাতক।

৩০ আগস্ট, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বাস যাত্রী নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপার বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিল। রাতে যাত্রী কম থাকায় চলতি পথে ওই তরুণী (২৫) ছাড়া সবাই তাদের গন্তব্যে নেমে যান। এ সুযোগে একা পেয়ে ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন।

একপর্যায়ে মহাসড়কে টহলরত পুলিশ মেয়েটির চিৎকার শুনে বাসটিকে অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপার বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে হাতেনাতে হেলপারকে ধরতে সক্ষম হয়। এ সময় চালক আলম ও সুপারভাইজার বিষু পালিয়ে যান। পরে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটি তার নাম আর বাড়ি কুষ্টিয়া ছাড়া কিছু বলতে পারেননি বলে পুলিশের ধারণা তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।

এদিকে গ্রেফতারকৃত হেলপার নাজমুল পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরে শুক্রবার বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল কোর্ট ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, শুক্রবার রাতে তিনি নিজে বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় হেলপার নাজমুল, চালক আলম ও সুপারভাইজার বিষুকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে গত বছর ২৫ অাগস্ট রাতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের জাকিয়া সুলতানা রুপা সিরাজগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে বাসে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার তাকে খুন করেন। পরে ওই রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুর থানা পুলিশ ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের পঁচিশ মাইল এলাকার রাস্তার পাশ থেকে রুপার লাশ উদ্ধার করে।