কাশিয়ানীর ফুকরা এখন পুরুষ শূন্য

| মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮
কাশিয়ানীর ফুকরা এখন পুরুষ শূন্য

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য আহত ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে দুই শতাধিক গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  

এদিকে, সংঘর্ষে নিহত ও পুলিশের মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা গ্রাম এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তারের ভয়ে যুবক ও বয়স্করা গা ঢাকা দিয়েছেন। বাড়িগুলোতে বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশু ছাড়া কেউ অবস্থান করছেন না। পুরো গ্রামটিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

কাশিয়ানী থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান জানান, সোমবার কাশিয়ানী উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দান করার অভিযোগে ৮৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো দেড়শ’ জনকে আসামি করে এসআই হিমেল মামলা করেছে।

সোমবার গভীর রাতে এ মামলাটি করা হয়। এ মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই গ্রামের  পরিস্থিতি সামলাতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ টহল রয়েছে।

গ্রামঘুরে দেখা গেছে, সংঘর্ষে হি্গংল সরদার নিহত ও পুলিশের মামলার পর থেকে ওই গ্রাম পুরুষ শূন্য রয়েছে। বাড়িগুলোতে বৃদ্ধ, মহিলা, শিশু ও গবাদি পশু ছাড়া কোন পুরুষকে দেখা যায়নি। গ্রামের রাস্তাগুলো মানুষ শূন্য। সকলের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোন কাজ ছাড়া কেউই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। পুরো গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

গ্রেপ্তারদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।প্রসঙ্গত, গত সোমবার সকালে কাশিয়ানী উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে হারুন-অর-রশিদ মোল্যার সাথে সাইফুল সিকদারের মধ্যে দীর্ঘ দিন বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে সোমবার দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫৭ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। ঘণ্টাব্যাপী ধরে চলা এ সংঘর্ষে কাশিয়ানী থানার ওসি, সাত পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।

মারাত্মক আহত সাইফুল সিকদারের সমর্থক হিংগুলকে প্রথমে গোপালগঞ্জ ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতে তাকে খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ  গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।