‘কারাগারে আদালত বসানো যাবে না সংবিধানের কোথাও লেখা নেই’

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮
‘কারাগারে আদালত বসানো যাবে না সংবিধানের কোথাও লেখা নেই’
সংবিধানের কোথাও লেখা নেই যে কারাগারে আদালত বসানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

৫ সেপ্টেম্বর, বুধবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। 

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “কারাগারে আদালত বসানো সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।” কিন্তু আদালত বসানো যাবে না সে কথা সংবিধানের কোথাও লেখা নেই। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান কারাগারের ভেতর কর্ণেল (অব.) তাহেরের বিচার কীভাবে করেছিলেন, তা দেশের মানুষ জানে।

বিএনপির আইনজীবীরা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার কাজ শেষ করতে ১০ বছর সময় পার করেছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার বিচার কার্যক্রমকে বিলম্বিত করতেই তারা কারাগারে আদালত বসানোকে সংবিধান লঙ্ঘন হিসেবে দাবি করছে। এ ধরনের দাবি ছলনা ও কৌশল। বিএনপির নেতারাই এ ধরনের কথা বলে সংবিধান লঙ্ঘন করছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে বয়স, তাতে তার চলাফেরা করা কষ্টকর। আদালতে তার হাজিরার সুবিধার জন্যই সাবেক কারাগারে এ মামলার বিচারের জন্য আদালত বসানো হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার কাজ আরও অনেক আগে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির আইনজীবীরা এ মামলার বিচার কার্যক্রমে ১০ বছর সময় পার করেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আদালতে কে হাজিরা দিতে গেল, আর না গেল তা দেখার বিষয় আদালতের। সেটা দেখার বিষয় সরকারের নয়।সংবিধান, আইন, নিয়ম ও আদালত না মানাই হলো বিএনপির বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র। তারা আদালত না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত ব্যবস্থা নেবে। এটা আমাদের বিষয় নয়। আদালতের বিষয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে দলের সঙ্গে সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের এই যৌথসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে কোনো কোনো বিষয়ে সহযোগী সংগঠনগুলো আওয়ামী লীগের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার জন্যই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপুমণি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি  মোল্লা মো. আবু কাওছার, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, কৃষক লীগের সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন মোল্লা, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার প্রমুখ।