রৌমারী চরাঞ্চলে দিগন্ত জুরে ভূট্রা চাষ ভাল ফসল দেখে কৃষক উৎফুল্ল

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি | শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৯, ২০১৯
রৌমারী চরাঞ্চলে দিগন্ত জুরে
ভূট্রা চাষ ভাল ফসল দেখে কৃষক উৎফুল্ল

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বন্যা না হওয়ায় ব্রম্মপুত্রের নদের পানি তারাতারি শুকিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় দিগন্ত জুড়ে ভূট্রা চাষ করেছে কৃষক। ফসলের চেহারা দেখে বাম্পার ফলনের আশায় কৃষক রৌমারী’র পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্রম্মপুত্র পারের চরের গ্রাম গুলোর কৃষকযেন খেলাঘর। নদীর খেয়াল খুশিমত প্রতি বছর ব্রম্মপুত্রের ভাঙ্গনের তান্ডবে কখনো বালুচর কখনো

নদের তলদেশে পরিনত হয়।ওই অঞ্চলের মানুষ গুলো জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ফসলের প্রকারভেদ অনুযায়ী সাদা ধবধবে বালুর বুকচিড়ে প্রভৃতির ডাল, তিষি, কাউন, চিনা, গুয়েমুড়ি, বাদাম ও ভূট্রা চাষ করে। ওখানকার মানুষ চেয়ে থাকে চর জেগে উঠার অপেক্ষায়। যেহেতু নদীর বুকচিড়ে জেগে উঠা ভুমি, ৪ মাস পড়েই আবার নদে পরিনত হবে, তাই ওরা ভূট্রা চাষসহ বিভিন্ন রবি ফসল বোপন করেন।

রৌমারী’র পশ্চিমে ফলুয়ারচর, পালেরচর, কান্দাপাড়া, খেরুয়ারচর, বড়চর, খেদাইমারী, ঘুঘুমারী, দক্ষিন ফলুয়াচর, পশ্চিম ফলুয়াচরসহ প্রায় ৮টি গ্রামের মানুষ ভুট্রা চাষ করে খাদ্যের চাহিদা মিটায়। সরেজমিনে গিয়ে ভুট্রা চাষী আজমল (মোড়ল) মেম্বার , বাদশা, রফিকুল, আলম, আলী আকবর, জয়নাল, হযবত আলী ও ছালাম এর সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা প্রায় ৮টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ রবিশস্য হিসেবে ভুট্রা ও আষাড়ি ফসল হিসেবে বাদাম, চিনা,ও কাউন চাষ করে সংসার চালাই। এহানে বালি মাটি হওয়ায় অন্য কোন ফসল হয়না। তবে কিছু কিছু জায়গায় বেলে দু’আশ মাটি থাকায় গমের ফলন আসে। ভালো ফসল নাহলে জামু কোনে, নদীর সাথে যুদ্ধ কইরা বাপ দাদার ভিটেমাটি জমিজিরাত আকরে ধইরা আছি। তবে আগের চাইতে বর্তমানে বাজারে ভুট্রার চাহিদা বেশী হওয়ায় যথেষ্ঠ আয় হয়।
রৌমারী উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেনের জানান, এবছর রৌমারীতে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্রা চাষ করা হয়েছে। এমনকি এবছর চরাঞ্চল জমিতে পলিমাটি ও বালি মিশ্রিত থাকায় ভুট্রাসহ অন্যান ফসলের বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে