রাস্তার পাশে ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছে প্রাণহানির শঙ্কা

গাইবান্ধা সংবাদদাতা | সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১১, ২০১৯

রাস্তার পাশে ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছে প্রাণহানির শঙ্কা
গাইবান্ধা পৌর এলাকার রেলগেট-ডিসি অফিস রাস্তার পাশে লাগানো শতবর্ষী কয়েকটি গাছের শুকনো ডালপালা ভেঙে জীবনহানির ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উপর গাছের শুকনো ডাল ভেঙে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছেও। সড়ক ও জনপথের রাস্তার পাশে লাগানো এসব গাছের মালিক জেলা পরিষদ। ঝুঁকিপূর্ণ এসব গাছ ও ডালপালা কেটে ফেলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গাইবান্ধা জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এসব গাছের বয়স ২০ থেকে শুরু করে ১০০ বছরেরও বেশি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ গঠনের আগে এসব রাস্তা ছিল জেলা পরিষদের অধীনে। পরে সড়ক ও জনপথের কাছে শুধু রাস্তা হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু মালিকানা থেকেই গেছে জেলা পরিষদের কাছে। তাই রাস্তার পাশে এসব গাছের সব দায়-দায়িত্ব জেলা পরিষদের। এসব ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহনে প্রতিদিন পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকার রেলগেট-ডিসি অফিস রোডের হকার্স মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট, পলাশপাড়ার নর্থ বেঙ্গল ট্রেডার্স ও মেসার্স রশিদ ট্রেডার্সের পাশে, বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের সামনের গাছগুলোতে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অনেকগুলো শুকনো বড় বড় ডালপালা। যা বিদ্যুতের তারের উপরেও ছড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধা-লক্ষ্মীপুর-সুন্দরগঞ্জ, ধোপাডাঙ্গা-নলডাঙ্গা, নলডাঙ্গা-বামনডাঙ্গা ও গাইবান্ধা-বাদিয়াখালী-বোনারপাড়া সড়কের পাশে রয়েছে শতাধিক শুকনো মরা গাছ ও অসংখ্য শুকনো ডালপালা। রাস্তার উপরেও রয়েছে জীবিত গাছের ডাল। যা বাস-ট্রাকসহ বড় যানবাহনচালকদের সমস্যায় ফেলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২৩ মার্চ গাইবান্ধা-লক্ষ্মীপুর-সুন্দরগঞ্জ সড়কের সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের পাঁচ জুমা বাজারের দক্ষিণে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উপরে গাছের শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে। এতে খোরশেদ আলম নামের একজন মারা যান এবং আহত হন ছয়জন। এ ঘটনায় একটি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একদিকে যেমন রাস্তার পাশের এসব শুকনো মরা গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে তেমনি অনেক গাছের বয়স পর্যাপ্ত হওয়ায় সেগুলোর মানও ধীরে ধীরে কমছে। এখনই টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব শুকনো গাছ ও ডালপালা কেটে ফেলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, জেলা শহরের ফোরলেনের কাজের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় গাছগুলো কাটার অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর পদটি শূন্য রয়েছে, এজন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া এই মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না। তবে কেউ এসব ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা কেটে ফেলার জন্য আবেদন দিলে সেটা যাচাই করে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চেয়ারম্যান জানান, গাইবান্ধা-লক্ষ্মীপুর-সুন্দরগঞ্জ ও নলডাঙ্গা-বামনডাঙ্গা রাস্তাসহ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মরা, শুকনো, পরিপক্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এমন ১৭টি গাছ কেটে ফেলছে কর্তৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সেটা সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।