‘কুতুব উদ্দিনের’ বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯
‘কুতুব উদ্দিনের’ বিরুদ্ধে চার্জশিট

 রাজধানীর গুলশান এলাকায় ১০ কাঠা জমিসহ একটি বাড়ি অবৈধভাবে দখলের মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) কুতুব উদ্দিন আহমদসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম সম্প্রতি এ চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটটি দাখিলের পর তা বিচারের লক্ষ্যে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। চার্জশিটভুক্ত অপর আসামি হলেন মো. নাজমুল ইসলাম সাঈদ।

২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। ওই দিনই দুপুরে মামলা দায়েরের পর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কুতুব উদ্দিন আহমদকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এদিনই বিকেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ওই বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। ‘ভূমি কুতুব’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভকারী কুতুব উদ্দিনসহ দু’জনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলাটি করেন দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। মামলায় ও চার্জশিটে তার পদবি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘পার্সোনাল অফিসার’ হিসেবে উলে¬খ করা হয়।

মগবাজারের ১/৭ মীরবাগের বাসিন্দা চার্জশিটভুক্ত অপর আসামি মো. নাজমুল ইসলাম সাঈদকে জমির ভুয়া আমমোক্তার সাজিয়ে তা হাতিয়ে নেয়া হয়। কুতুব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে গুলশানে ১০ কাঠার একটি প¬ট তার শ্বশুরসহ কয়েকজনের নামে বরাদ্দ করেন তিনি।

চার্জশিটে বলা হয়, গুলশান ১ নম্বরের ১ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ি পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেন কুতুব। ১০ কাঠার ওপর বাড়িটির দলিলে শ্বশুর আবদুল জলিল মৃধার নাম থাকলেও প্রকৃত মালিক কুতুব উদ্দিন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা দেখিয়ে ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কৌশলে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে রাজউকের হুকুম দখল করা সম্পত্তি অবমুক্ত করা হয়।

এরপর সাঈদকে জমির ভুয়া আমমোক্তার সাজিয়ে শ্বশুরসহ আরও দু’জনকে ক্রেতা সাজিয়ে জমিটি আত্মসাৎ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, শ্বশুরের নামে জমিটি ক্রয় দেখানো হলেও তিনি কখনও জমি ভোগ করেননি বা সেখানে বসবাস করেননি। কুতুবই জমিটি দখলে রেখেছেন। এমনকি সপরিবারে তিনি সেখানে বসবাসও করছেন। এ জমির অপর ক্রেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ডা. একেএম

আনোয়ার উল¬াহ ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামসুন্নাহারের নাম থাকলেও তারা ওই জমি ভোগদখল করেননি। এমনকি জমিটি তাদের দখলেও নেই। কুতুব তাদের প্রভাবিত ও প্ররোচিত করে কম দামে গুলশানে জমি কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের নাম দলিলে ক্রেতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। চার্জশিটে ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।