ত্রিশালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি

কামরুজ্জামান মিনহাজ,ময়মনসিংহ | বুধবার, জুন ১৯, ২০১৯
ত্রিশালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি

ময়মনসিংহের ত্রিশালের হরিরামপুর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু মোতাহার মো: নিয়ামুল বাক্কীর বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত এই শিক্ষকের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচী পালন করছে শিক্ষার্থীরা । ফুঁসে উঠেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসীরাও । আজ বুধবার ও গতকাল মঙ্গলবার এসব কর্মসূচী পালন করা হয় । যদিও ঈদের পর থেকেই এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক আবু মোতাহার মো: নিয়ামুল বাক্কী ইতিপূর্বে ঢাকার মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান এলাকার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন । সেখানে তিনি একজন ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি এবং অশালীন কাজে লিপ্ত থাকাবস্থায় আবু মোতাহার মো: নিয়ামুল বাক্কী এক ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হন। তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন । এঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল হলে মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাকগণ আৎকে উঠেন ।

এ অভিযোগে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মাঠে বিক্ষোভ করে চলেছেন ।
বিক্ষোভে যোগ দেয়া এক অভিভাবক জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু মোতাহার মো: নিয়ামুল বাক্কী প্রায়শই বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। আমরা তার অপসারণ দাবি করছি।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু মোতাহার মো: নিয়ামুল বাক্কীর অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করবো না।

এই শিক্ষক একাধিক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে তাদের বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ও আপত্তিকর কথাবার্তা বলে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। বিষয়গুলি জানাজানি হলে স্কুলের সভাপতি নুরুল ইসলাম ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হন। শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রায়ই তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন প্রধান শিক্ষক।

কথা বলতে আবু মোতাহার মো: নিয়ামুল বাক্কীর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় এমপি,জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বরাবর আবেদন জানানো হয়েছে ।
ত্রিশালের সচেতন লোকজন জানান, এই আবু মোতাহার মো: নিয়ামুল বাক্কী একজন চরিত্রহীন শিক্ষক। তার কাছে কেউ নিরাপদ নয়। তার মতো শিক্ষক থাকলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হবে। চরিত্রহীন কোনো ব্যক্তি আমাদের শিক্ষক হতে পারে না। তার এমন কর্মাকান্ডের বিচার ও স্থায়ী বহিষ্কারে দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগ রয়েছে, ত্রিশাল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদ হাসান  ্ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম ৯ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বেকডেটে আবু মোতাহার মো: নিয়ামুল বাক্কীকে নিয়োগ দেন বলে জানান সহকারী শিক্ষকগন।

অভিভাবকরা বলেন, কোমলমতি ছাত্রীরাও জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছে শিক্ষক নামধারী এসব অমানুষ দ্বারা। বেশির ভাগ সময় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সরলতার সুযোগ নিয়েই ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন আচরণ বা নির্যাতন করা হয়। শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, থানা-পুলিশ, সমাজের কাছে এই শিক্ষক দোষী । সচেতন মহল চান এই শিক্ষকের  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।