মামলা দেওয়ায় দুই ট্রাফিক পুলিশকে রক্তাক্ত করলো মোটরসাইকেল চালক

রিপোর্ট | বুধবার, জুলাই ১০, ২০১৯
	
মামলা দেওয়ায় দুই ট্রাফিক পুলিশকে রক্তাক্ত করলো মোটরসাইকেল চালক
মোটরসাইকেল চালকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ায় রাজধানীর শ্যামলীতে সার্জেন্টসহ দুই ট্রাফিক পুলিশকে মেরে রক্তাক্ত করেছে তিন যুবক। আহত দুই ট্রাফিক পুলিশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারী দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের নাম সজীব আহম্মেদ ও ইয়াসিন। তবে একজন পালিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে শ্যামলীর ১ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ওই যুবকদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশকে মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বুধবার (১০ জুলাই) আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চাইবে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। গ্রেফতার সজীবের বাড়ি ময়মনসিংহে, ইয়াসিনের বাড়ি ভোলা। তারা শ্যামলী ২ নম্বর সড়কের একটি বাসায় ভাড়া থাকে। তারা মেডিক্যাল এক্সেসরিজ বিক্রি করে।
শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘সার্জেন্ট কামরুল হাসান ও কনস্টেবল রোকুনুজ্জামান শ্যামলীতে ডিউটিতে ছিলেন। একটা মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ঠিক না থাকায় সেটির বিরুদ্ধে সার্জেন্ট মামলা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী সার্জেন্ট ও কনস্টেবলকে মারধর করে। এই ঘটনায় সার্জেন্ট কামরুল হাসান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আমরা দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি। তারা হলো সজীব আহম্মেদ (২৫) ও ইয়াসিন (৩৫)। তবে মমিন (২৫) নামে আরেক যুবক পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
মামলার এজাহারে সার্জেন্ট অভিযোগ করেছেন- ‘মোটরযান আইনের ১৩৭ ধারা অনুযায়ী একটি মোটরসাইকেলের চালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ সময় চালক সজীব আহম্মেদ ও আরোহী ইয়াসিন ক্ষিপ্ত হয়ে সার্জেন্ট কামরুল হাসান ও কনস্টেবলের ওপর হামলা চালায়। তাদের সঙ্গে এসে যোগ দেয় মমিন নামে আরেক যুবক। পরবর্তীতে পথচারীরা এগিয়ে এসে পুলিশকে মারধরের প্রতিবাদ করেন। তারা দুই যুবককে আটকে রেখে মারধর করেন। এ সময় এক যুবক পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। গুরুতর আহত কনস্টেবল রোকুনুজ্জামান ও সার্জেন্ট কামরুল হাসানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
আফজাল নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘মামলা দেওয়ার পর কনস্টেবলের সঙ্গে তর্কে জড়ায় মোটরসাইকেল চালক সজীব। সার্জেন্টের মুখে মাস্ক ছিল, তাকে মাস্ক খুলে কথা বলতে বলে চালক। এ সময় সার্জেন্ট মাস্ক না খোলায় তার মাস্ক ধরে টান দেয় তারা। এরপর তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। মোটরসাইকেল থেকে নেমে কনস্টেবলকে কিল-ঘুষি দিতে থাকে দুই যুবক। এ সময় কনস্টেবল মাটিতে পড়ে যান। তার নাক ফেটে যায়। এরপর সার্জেন্টকেও মারধর করা হয়। তাদের সঙ্গে আরও এক যুবক যোগ দেয়। এক সময় পথচারীরা তাদের ধরে ফেলে। এরপর পুলিশ এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়।’
এদিকে গুরুতর আহত কনস্টেবল রোকুনুজ্জামানের বরাত দিয়ে শেরেবাংলা নগর এলাকার একজন ট্রাফিক পরিদর্শক জানান, মোটরসাইকেলটিকে সিগন্যাল দিয়ে সার্জেন্টকে কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়। সার্জেন্ট উপযুক্ত কাগজপত্র না পেয়ে মামলা দেন। এরপর তারা পুলিশকে গালিগালাজ শুরু করে। তাদের বিরুদ্ধে ডিসির কাছে নালিশ করবে এ রকম কথা বলে। তখন কনস্টেবল বলেন- নালিশ করেন। এরপর তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।