শিশুর কাটা মাথা নিয়ে মদ খেতে গিয়েছিলেন ওই যুবক

নেত্রকোণা প্রতিনিধি, | বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯
শিশুর কাটা মাথা নিয়ে মদ খেতে গিয়েছিলেন ওই যুবক
নেত্রকোণায় গণপিটুনিতে নিহত যুবক হত্যা করা শিশুর ছিন্ন মস্তক নিয়ে হরিজন পল্লীতে মদ খেতে গিয়েছিলেন বলে জানাচ্ছে পুলিশ। তিনি কী কারণে এই হত্যা করেছেন সেটা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তাদের ধারণা, পদ্মাসেতু নিয়ে ছড়ানো গুজব এর একটি কারণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার শহরের নিউটাউন এলাকার অনন্তপুকুর পাড়ে রবিন নামে ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা। এ সময় তার ব্যাগে সজীব নামে আট বছরের এক শিশুর কাটা মাথা পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থলের অদূরে পাওয়া যায় তার নিথর দেহ।

পদ্মাসেতু নির্মাণে এক লাখ মানুষের মাথা প্রয়োজন বলে ছড়ানো গুজবের মধ্যে নেত্রকোণায় মর্মান্তিক ঘটনাটি চাঞ্চল্যের তৈরি করেছে।

শিশুটি নেত্রকোণা সদর উপজেলার আমতলা গ্রামের রিকশা শ্রমিকর রইছ উদ্দিনের ছেলে সজীব। রইছ শহরের কাটলি এলাকায় হিরণ মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকেন।

নিহত যুবক রবিনও একই এলাকায় থাকতেন। তিনিও পেশায় একজন রিকশা চালক।

কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তার বর্ণনা দিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শাহজাহান মিয়া। তিনি জানান, বেলা সাড়ে ১২টার  দিকে শহরের বারহাট্টা রোড এলাকার হরিজন পল্লীতে রবিন ব্যাগ হাতে মদ খেতে যান। এক ঘরে মদ না পেয়ে অন্য ঘরে যাওয়ার সময় ব্যাগ থেকে রক্ত পড়তে দেখেন পল্লীর লোকজন। তখন তাকে জিজ্ঞেস করলে সঠিক জবাব দিতে পারেননি। তখন ব্যাগ খুলে শিশুর মস্তক দেখতে পান স্থানীয়রা।

এ সময় রবিন মস্তক নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। স্থানীয়রাও তার পিছু ধাওয়া করে নিউটাউন এলাকার অনন্ত পুকুর পাড়ে তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রবিন মারা যান।

পরে পুলিশ নিহত শিশু সজিবের দেহ কাটলি এলাকার একটি তিনতলা নির্মাণাধীন ভবনের নীচতলা থেকে উদ্ধার করে। শিশুটি ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বলেন, ‘কেন এই হত্যাকাণ্ড তা বের করতে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। এ জন্য রবিনের ব্যবহার করা মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। এখান থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, সে চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তিনি যেখানে মদ খেতে গিয়েছিলেন, সেই পল্লী থেকে তিন জনকে থানায় নেয়া হয়েছে কথা বলতে।’

সম্প্রতি পদ্মাসেতু নির্মাণে এক লাখ মানুষের মাথা প্রয়োজন বলে ফেসবুক ও ইউটিউবে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই গুজব সারাদেশেই ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সরকারকে রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি যারা গুজব ছড়িয়েছে তাদের বেশ কয়েকজনকে র‌্যাব ও পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। এদের মধ্যে অন্তত দুই জন জামায়াত নেতা-কর্মী হওয়ায় এর মধ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সন্দেহও তৈরি হয়েছে।

গুজবের কারণে একাধিক এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একজনকে পিটিয়ে হত্যাও করা হয়েছে।