নয়নকে তালাক না দিয়েই রিফাতকে বিয়ে

খায়রুল আলম রফিক, বরগুনা থেকে ফিরে | শুক্রবার, জুলাই ২৬, ২০১৯
নয়নকে তালাক না দিয়েই রিফাতকে বিয়ে

বরগুনা জেলা সদরে আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডে সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ।

এই মিন্নির সাথে নয়ন বন্ডের রিফাতের আগেই বিয়ে হয়েছিল । সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ডকে তালাক না দিয়েই মিন্নি রিফাতকে বিয়ে করেছে বলে নয়নের মা সাহিদা খাতুন আমাদের কন্ঠের কাছে জানিয়েছেন ।

সাহিদা খাতুন আমাদের কন্ঠকে বলেন, ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর ৫ লাখ টাকা রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে নয়ন ও মিন্নির বিয়ে হয় । কাজী আনিসুর রহমান এই বিয়ে পড়ান । নয়নের মা সাহিদা খাতুন  বলেন, বিয়ের দুই মাস পর থেকেই রিফাতের সাথে মিন্নির পরকিয়ার সম্পর্ক শুরু হয় যা আমি বুজতে পেরেছি। নয়নের নিকট থেকে প্রায় সময়ই মিন্নি টাকা পয়ঁসা নিত ।

 এক পর্যায়ে নয়নকে তালাক না দিয়েই মহা ধুমধামে রিফাতকে বিয়ে করে মিন্নি । মিন্নি নয়নকে তাদের বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলে । নইলে সে আতœহত্যা করবে বলে হুমকি দেয় ।

রিফাতের সাথে বিয়ের পর নয়নের সাথে হানিমুনে কক্সবাজার গিয়েছিল মিন্নি দাবি করে নয়নের মা  সাহিদা খাতুন  বলেন, রিফাতের সাথে বিয়ের পরও নয়নের সাথে দৈহিক সম্পর্ক ছিল মিন্নির ।

 মিন্নি দিনে- দুপুরে নয়নের বাসায় থাকত । মিনি রান্না করে নয়ন ও তার মাকে খাওয়াতো । নয়নের আগেও মিন্নি জুয়েল হাওলাদার নামের এক যুবককে বিয়ে করে বলেও জানান নয়নের মা সাহিদা খাতুন ।  তিনি মিন্নি ও অন্য অপরাধীর বিচার দাবি করেন ।

মিন্নি- নয়নের বিয়ে সম্পন্নকারী বরগুনা পৌরসভা এলাকার কাজী আনিছুর রহমান ভূঁইয়া আমাদের কন্ঠকে  জানান, আমার অফিসে বসেই মিন্নির সাথে নয়নের বিয়ে হয় । মিন্নির বয়স তখন ছিল ১৮ বছর ৯ মাস ২৩ দিন ।

 নয়নকে ডিভোর্স দিয়েছে কিনা - প্রশ্ন করা হলে কাজী আনিছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, জানা নেই, আমি এখন চাপে আছি । আমি আর কিছু বলতে চাই না ।  
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর আমাদের কন্ঠকে জানান, নয়নের সাথে মিন্নির বিয়ের কথা শুনেছি । আমাদের পাশে বরগুনার কোন আইনজীবি নেই । ঢাকা থেকে আইনজীবিরা আসছেন । আসা করি ন্যায় বিচার পাবো । আইনজীবিদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ ।

পুলিশ কোন সহযোগীতা করছে না অভিযোগ করে বলেন, রিমান্ডে নিয়ে মিন্নিকে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে । আমার মেয়ে মিন্নি খুনের সাথে জড়িত না ।
বরগুনা কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক ডাক্তার হাবিব জানান, মিন্নি আগের তুলনায় অনেক সুস্থ্য আছেন ।

নিহত রিফাতের পিতা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ মিন্নিসহ সকল খুনির ফাঁসি দাবি করে জানান,  আমি ন্যায় বিচার চাই ।
প্রসঙ্গত, গত ২৬

জুন বরগুনা কলেজের সামনে রাস্তায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির উপস্থিতিতে কুপিয়ে হত্যা করে আসামিরা।
এদিকে বরগুনা সদর থানায় প্রকাশ্যে হত্যা, সন্ত্রাস, মাদক কারবারসহ আইন-শৃংখলা পরিন্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার পরও থানার ওসি আবির মোহাম্মাদ হোসেন এখনও বহাল তবিয়তে আছেন ।

ওসির বিরুদ্ধে নয়নের সাথে মাদক ব্যবসা নিয়ে গভীর সখ্যতা ছিল বলে জানান এলাকাবাসী । নয়নের সাথে ওসির টাকা পয়ঁসার লেনদেন হতো, নয়ন পুলিশের সোর্স ছিল। এছাড়াও স্থানীয় সন্ত্রাসী, মাদক কারবারিদের সাথে ওসির সখ্যতা রয়েছে এমন অভিযোগ্ও রয়েছে  । এলাকাবাসী ওসি ও ওসি তদন্তের প্রত্যাহারের দাবি করেন ।

নয়ন এত মামলার আসামি ছিল । আগে কেন তাকে গ্রেফতার করলেন না । এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি আবির মোহাম্মাদ হোসেন আমাদের কন্ঠকে বলেন, এটা এসপি স্যারের বিষয় । এব্যাপারে এসপি স্যার বক্তব্য দিয়েছেন । তিনি বক্তব্য দিবেন ! আমি আর কিছু বলতে চাই না ।