তাড়াইলের মানুষ আমার প্রিয় ------ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

খায়রুল আলম রফিক, তাড়াইল থেকে ফিরে | বুধবার, অক্টোবর ৯, ২০১৯

তাড়াইলের মানুষ আমার  প্রিয় ------ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সারা পাকিস্তানে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে তাড়াইল থেকে এমএলএ নির্বাচিত হয়েছিলাম। তখন আমার বয়স ছিল ২৫ বছরের চেয়ে একমাস ১৯ দিন কম। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এমপি হয়েছি। আমি তাড়াইলের মানুষকে ভালোভাবেই চিনি ।

অনেকে মারা গেছেন । আমার সামনে এখনও অনেকেই আছেন । তাদেরকেও আমি চিনি । আপনাদের সবাইকে আমি চিনি, নাম জানি ।  আমি কিশোরগঞ্জে উকালতি করেছি । রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে নিয়মিত এখানে ছিলাম । কিশোরগঞ্জ তথা দেশের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করেছি। কারও উপকার করতে না পারি, অপকার করিনি। আপনাদের ভালোবাসা-দোয়ই আমাকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসিয়েছে । তাড়াইলের মানুষ আমার  প্রিয় ।

বুধবার বিকাল ৩টায় কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজ মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, আসর ও মাগরিবের নামাজের মাঝামাঝিতে আছি । রাষ্ট্রপতি হিসেবে যেন সঠিক কাজটি সম্পন্ন করতে পারি, আল্লাহ যেন সে সুযোগ দেন। আপনারা তাড়াইলবাসী দোয়া করবেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৬১ সাল থেকে শুরু করে ৫২ বছর ধরে রাজনীতি করছি। ১৯৭০-এর নির্বাচন থেকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আপনারা বারবার আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আপনারা দুই হাত ভরে দিয়েছেন। প্রতিদানে কিছু দিতে পারিনি। ।

তাড়াইলবাসীর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজ মাঠটি স্টেডিয়াম হলে ভাল হয়  । তিনি নীলগঞ্জ নদী খননের জন্য পানি মন্ত্রীকে বলবেন, বলে তাড়াইলবাসীকে আস্বস্ত করেন । তিনি বলেন, ইচ্ছা ছিল মাটির রাস্তা দিয়ে তাড়াইল থেকে করিমগঞ্জ যাবো । হলোনা । এতো পুলিশ কোথায় পাবো ?

রাষ্ট্রপতি বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলায় অনেক কীর্তিমানের জন্ম হয়েছে। তাদের পথ ও ধারা অনুসরণ ও অনুকরণ করে রাজনীতিবিদদের সাধারণ মানুষের কাজে এগিয়ে আসতে হবে। বিত্তবান লোকদের সাধারণ ও গরিব মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ দেশ থেকে জঙ্গিবাদ, মাদক, চাঁদাবাজি ও জুয়াসহ সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অভিযানকে সফল করার সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্নীতি দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সবচেয়ে বড় বাধা।

কাজেই চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে সফল করতে সবাইকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী সব ধরনের দুর্নীতি ও অন্যায় আচরণ দূর করার নীতিগতভাবে অঙ্গীকার করতে হবে।

ধর্ম অন্যায় কাজ করতে নিষেধ করে। তাহলেই আমরা আমাদের দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে যেতে পারব এবং উন্নয়নের পাশাপাশি দেশে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাধীনতা-৭১ ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অনার দেওয়া হয়।  রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তাড়াইলে এটি তার প্রথম সফর।