রংপুরে টাকাই শেষ কথা ওসির কাছে!

আতাউর রহমান,স্টাফ রিপোর্টার | শুক্রবার, নভেম্বর ৮, ২০১৯
রংপুরে  টাকাই শেষ কথা ওসির কাছে!

রংপুরের  তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিন্নত আলী । এ থানায় যোগ দিয়েছেন প্রায় দুই বছর আগে । এ থানায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ভূক্তভোগীকে নির্দিষ্ট অংকের টাকা গুনতে হয় ।

দিতে হয় ওসি জিন্নত আলীকে । আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য যার ওপর ভরসা সাধারণ মানুষের তারাই কি করে ভক্ষক হন । এমন অভিযোগ আর প্রশ্ন তাদের ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ থানায় অভিযোগ করতে নির্ধারিত ৫ হাজার টাকা, মামলা রেকর্ড করতে ১০ হাজার টাকা, চার্জশীট করাতে ৫০ হাজার টাকা, নাম কাটাতে ৩০ হাজার টাকা, জিডি করাতে ২ হাজার টাকা, তদন্ত করাতে ৫ হাজার টাকা , গ্রেপ্তার করাতে ১৫ হাজার টাকা ওসির জন্য গুণতে হয় ।

জানা গেছে, রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে কিভাবে ক্ষমতাধর হয়ে ওঠা যায় তা জিন্নত আলীর ভালোই জানা। তাই তার বেপরোয়া দুর্নীতির লাগাম টানা সম্ভব হয় না পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। অভিযোগ রয়েছে, তারাগঞ্জ থানায় মামলা তো দূরের কথা টাকা ছাড়া এখন কোন জিডিও নেয়া হয় না।

ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলার ভয় দেখিয়ে গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে । তবে তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিন্নত আলী তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন- স্বার্থসিদ্ধি হাসিল করতে না পেরে একটি মহল তাকে বেকায়দায় ফেলতে এসব অভিযোগ তুলেছে। অভিযোগ তেমন সত্য না ।

আমার থানা আমি চিনি । তদন্তকারী কর্মকর্তারা কি করে আমি জানি না । কিছু কিছু ক্ষেত্রে মামলা তদন্ত ছাড়াই নিতে হয় । প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বে একটি ওসির কর্মকা-ে থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন হাইকোর্ট। একজন বিচারক বলেছেন, ওসিরা এত সাহস কোথায় পায় ?