সিরাজগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস টাকা ছাড়া শিক্ষকদের বদলী হয় না

স্টাফ রিপোর্টার | শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০১৫
সিরাজগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস টাকা ছাড়া শিক্ষকদের বদলী হয় না

সিরাজগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কতিপয় কর্মচারী ও শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে উৎকোচ নিয়ে শিক্ষক বদলীর অভিযোগ উঠেছে। জেলা ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি চক্র গত কদিন থেকে অসহায় শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে তাদের সদর পৌরসভাসহ আন্তঃজেলার বিভিন্ন স্থানে বদলী করা হচ্ছে। গত দু’সপ্তাহ থেকে প্রতিদিনই ওই দুই অফিসে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষক ও স্বজনদের ভীড় দেখা গেছে। স্কুল ও পাঠদান ফাঁকি দিয়ে অসহায় এসব শিক্ষকেরা বদলীর জন্য হন্যে হয়ে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেছনে হন্যে হয়ে ছুটতেও দেখা গেছে।

গত সোমবার দুপুরে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গেলে দেখা যায়, শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালেক অফিস কক্ষ ছেড়ে পাশে কেরানীদের কক্ষে বসে কতিপয় শিক্ষক, দলীয় লোকজন ও স্থানীয়দের সাথে দেন-দরবার করছেন। শিক্ষক বদলীর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ব্যস্ততার অযুহাতে তিনি দীর্ঘ সময় সাংবাদিকদের বসিয়ে রাখেন। সন্ধ্যার পর কতিপয় শিক্ষক সাংবাদিকদের সাথে বাগ-বিতন্ডতায়ও জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দালাল শিক্ষকরা পালিয়ে যান।

এদিকে, পুলিশ ও সাংবাদিকদের সামনে সদর উপজেলার ধীতপুর-আলাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছাঃ সাহিদা খাতুন জানান, টাকা না দিলে এ দফতরে কখনও বদলী হয় না। গত কদিন থেকে ঘুরছি। টাকা দিতে না পারায় সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও আমার বদলী হয়নি।

এসময় হোসেনপুর (উত্তর) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহনাজ পারভীন বলেন, জেলা শিক্ষা অফিসারের নাম করে সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের তেঘরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (বর্তমানে খোকশাবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসেছেন) সহকর্মী নজরুল ইসলাম তাকে গয়লা মডেল স্কুলে বদলীর জন্য তার নিকট ৬০ হাজার টাকা চান। সে টাকা না দেওয়ায় তার বদলী শেষ পর্যন্ত হয়নি।

এ ধরনের অভিযোগ করেন অনেক শিক্ষক। সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালেক উৎকোচ নিয়ে শিক্ষকদের বদলী বাণিজ্যের বিষয়টি সাংবাদিক ও পুলিশের সামনে অস্বীকার করেন। হোসেনপুর (উত্তর) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষক নেতা আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, বদলীর নীতিমালা অনুযায়ী শতকরা ১০ ভাগ শিক্ষক সদরে আনার কথা। কিন্তু তা উপেক্ষা করে উৎকোচ নিয়ে ৩০ শতাংশেরও অতিরিক্ত শিক্ষক বাইরে থেকে আনা হচ্ছে। বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও জেলা ও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিষয়টি শুনছেন না। সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমসহ একাধিক সহকর্মী মন্তব্য করেন শিক্ষক নজরুল শিক্ষক নামের কলঙ্ক। তার স্কুল ফাঁকির বিষয়টি সকলেই জানে। কিন্তু কেউই তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সাহস পায় না।

সোমবার দুপুরে জেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে আলোচিত সেই দালাল শিক্ষক নজরুলকে দেখা যায়। বিদ্যালয় ফাঁকি দিয়ে অন্য শিক্ষকদের সাথে তাকেও দেনদরবার করতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের দেখে সে পালাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে ওই অফিসের অন্যান্য কর্মচারী ও সহকর্মীর সামনে হাতজোর করে জীবনে আর এ ধরনের কর্মকান্ড করবেন না প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং ক্ষমা চেয়ে তিনি সঁটকে পড়েন।

শিক্ষক নজরুলের বিদ্যালয় এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ফাঁকির বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসার নুর ইসলামকে বলা হলেও কর্ণপাত করেননি তিনি। বদলী বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

অপরদিকে, মঙ্গলবার দুপুর থেকে বেশ কজন সরকার দলীয় লোকজনকে এ প্রতিনিধির মোবাইলে নজরুলের পক্ষে পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য কটাক্ষভাবে এবং রূঢ়কণ্ঠে বলা হয়েছে।

অ/স/ম/স/উ/রুমি