রাঙামাটিতে দপ্তরী কর্তৃক স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার | শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০১৫
রাঙামাটিতে দপ্তরী কর্তৃক স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের চেষ্টা

রাঙামাটি শহরের কলেজ গেইট এলাকায় হিন্দুৃ পরিবারের পঞ্চম শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে তার মা। ধর্ষণের ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হতে চললেও প্রভাবশালীদের চাপের মুখে এলাকা থেকে বেরিয়ে থানায় অভিযোগ করতেও ভয় পাচ্ছে ভিকটিমের পরিবার।

এই নিয়ে এলাকায় শালিসী বৈঠকের কথা জানিয়ে গত তিনটি দিন নানাভাবে হয়রানী করার পাশাপাশি জমিদারের মাধ্যমে ভাড়ায় থাকা বসত ঘর থেকেও তাড়িয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে এলাকার প্রভাবশালী মহল।

এদিকে ঘটনাটি শুনার পর এই ব্যাপারে জানতে চেয়ে অভিযুক্তের কর্মস্থল আমানতবাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সাথে কথা বলতে তার বাসভবনে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের সাথে প্রধান ফটক নাখুলে র্দুব্যবহার করেছে প্রধান শিক্ষিকার এক নিকটাত্মীয়। অপরদিকে এই ঘটনার সাথে নিজে কোনোভাবেই জড়িত নয় এবং এই ধরনের কোনো ঘটনা-ই ঘটেনি বলে দাবি করেছে অভিযুক্ত দপ্তরী।

ভিকটিমের মা জানিয়েছেন, গত বুধবার বিকেলের দিকে আমানতবাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রীটিকে স্কুলের গাইড বই দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে স্কুলের দপ্তরি শফিউল বশর মনা স্কুলের ২য় তলায় তাকে ধর্ষনের চেষ্টা চালায় বলে জানান ছাত্রীটির মা। তিনি বলেন, মিনা বিধ্বস্থ অবস্থায় ছেড়া কাপড় নিয়ে কোনরকমে বাসায় এসে তার মাকে ঘটনাটি বলে। ঘটনার পর থেকে বিচারের জন্য ছাত্রীটির পরিবারের পক্ষ থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাসিনা বেগমসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তির কাছে গেলেও তারা কোন বিচার পাননি। বিচারে বসবে বসবে বলে ঘুরানো হচ্ছে হতদরিদ্র হিন্দু পরিবারটিকে।

এমনকি বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রীটির মাকে ডেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজনে মিলে ৩০হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি সমাধানের কথা বলা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে ও হুমকি প্রদান করা হয় বলে সাংবাদিকদের জানান ঘটনার শিকার ছাত্রীটির মা। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, আমি কোনো টাকা চাইনা, আমি এ জঘন্যতম ঘটনার বিচার চাই। তিনি বলেন, ঘটনার পর তাদেরকে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে এবং তিনি যে ঘরে ভাড়া থাকেন সেখান থেকেও তাকে চলে যেতে বলা হচ্ছে।

ঘটনার পরেও মামলা কেন করা হয়নি জানতে চাইলে স্কুল ছাত্রীটির মা বলেন আমাকে পাহাড়া দেয়া হচ্ছিল, আমরা পরিবার নিয়ে ভয়ের মধ্যে ছিলাম। এছাড়া ঘরের মালিকও আমাকে ঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এদিকে ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনায় আজ পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে আমানতবাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনা বেগমের সাথে কথা বলতে তার বাসায় গেলে তার আত্মীয়রা সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরন করেন। পরে সাংবাদিকরা তাকে ফোন করলে তিনি বিষয়টি প্রথমে স্বীকার করলে ও পরে তা অস্বীকার করেন এবং বলেন এবিষয়ে তিনি কিছুই জানেননা।

এ ঘটনায় জড়িত মনার বাসায় সাংবাদিকরা গেলে মনা পালিয়ে অন্যত্র চলে যায়। তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, মনা বাসায় নেই। তবে অজ্ঞাত স্থান থেকে অভিযুক্ত মনা এই প্রতিবেদককে জানায়, সে ঘটনার শিকার, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মনা জানায়, মেয়েটির মা তার কাছে একটি গাইড বই চেয়ে তার মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠায়। এসময় বিদ্যালয় ভবনের বাইরে খোলা মাঠে দাড়িয়ে মেয়েটির সাথে আমার আলাপ হয়েছে পরে মেয়েটি পরে আসবে বলে চলে যায়। মেয়েটির সাথে আলাপকালে এলাকার আরো দুই ছেলে উপস্থিত ছিলো জানিয়ে তাদেরকেও এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার অনুরোধ করে মনা।

এলাকায় ধর্ষনের ঘটনার এলাকার জনগন বলেন, এর আগেও স্কুলে আরেকজন ছাত্রীকে ও ধর্ষনের চেষ্টা করে দপ্তরী মনা। তখন ঘটনাটি চাপা দেন স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ এলাকার কয়েকজন। এলাকার মানুষ বলেন, ঘটনার বিচার না হওয়ায় বারবার এ ধরনের অপকর্ম করছে স্কুলের দপ্তরী মনা। মনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ তাকে প্রশ্রয়দানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এদিকে ঘটনাটির বিষয়ে রাঙ্গামাটির সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার চিত্ত রঞ্জন পাল ও কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মনু সোহেল ইমতিয়াজকে বিষয়টি জানালে তারা উভয়েই এই ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

অপরাধ সংবাদ/ কে আই এ