কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি বাড়লেও বাড়েনি বিদ্যুৎ উৎপাদন

স্টাফ রিপোর্টার | বুধবার, মে ৬, ২০১৫
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি বাড়লেও বাড়েনি বিদ্যুৎ উৎপাদন
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক জল বিদ্যুৎ প্রকল্প কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বর্তমানে পানি রুলকার্ভের চেয়ে বেশি রয়েছে। অথচ বাড়েনি বিদ্যুৎ উৎপাদন। এ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট সচল থাকলে ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়। যা সম্পূর্ণ নির্ভরশীল রুলকার্ভের ওপর।


সূত্র জানায়, রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী লেকে ৮১.৩৪ ফুট মীন সী লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা। কিন্তু কাপ্তাই লেকে বর্তমানে পানি রয়েছে ৮৩.১৮ ফুট এমএসএল। যা রুলকার্ভের চেয়ে দুই ফুটেরও বেশি পানি রয়েছে। আর এ অবস্থায় শুধুমাত্র কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট থেকে মাত্র ৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।


লেকে দুই ফুটেরও বেশি পানি থাকার কথা স্বীকার করে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আবদুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, এবার মার্চ ও এপ্রিল মাসে একাধিকবার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টি হবার কারণে লেকে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনো বর্ষা মৌসুম শুরু হয়নি। বর্ষা আসার আগেই আগাম বৃষ্টি কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সহায়ক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


তবে লেকে পানি বেশি থাকলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত রয়েছে বলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে। গত ৪ মে রাত ৮টায় কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা শাহাজাহান ভুইঁয়া জানান, বর্তমানে ২ নম্বর জেনারেটর সচল রয়েছে। ২ নম্বর জেনারেটর থেকে এখন মাত্র ৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ায় বাড়ছে লোডশেডিংও। অথচ কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি জেনারেটর স¤পূর্ণ সচল থাকলেও উৎপাদনে রয়েছে একটি। সব জেনারেটর একযোগে উৎপাদনে থাকলে ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হতো।


এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জাতীয় গ্রীডের চাহিদা অনুযায়ী কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। জাতীয় গ্রিডে এই মুহূর্তে যা চাহিদা তাই উৎপাদন করা হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা বাড়ালে কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়নো হবে।