স্ত্রীর একাধিক পরকীয়ায় বলি হলেন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০১৫
স্ত্রীর একাধিক পরকীয়ায় বলি হলেন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক
একাধিক পরকীয়ায় জড়িয়ে ভাড়াটে দিয়ে সিরাজগঞ্জ শহর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজনকে (৩৭)খুন করিয়েছেন তার স্ত্রী উম্মে সালমা তিথি। স্বামীর ‘অত্যাচারে’ অতিষ্ঠ হয়ে এবং প্রেমিকদের ‘প্ররোচনায়’ ভাড়াটে লোক দিয়ে স্বামীকে খুন করেছেন বলে বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তি দেন তিথি।

বুধবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুপ্রিয়া রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে এসব অপরাধের কথা স্বীকার করেন তিথি। আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তিথি ও তার ছোট ভাই পিয়াসকে বিকেলে জেলা কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম।

সুজনের মা মাজেদা খাতুন ছেলে খুনের ঘটনায় নিজে বাদী হয়ে মঙ্গলবার সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছেলের বৌ তিথি ও তার ভাই পিয়াসকে আসামি করা হয়। ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার বিকেলে মালসাপাড়া কবরস্থানে সুজনের দাফন সম্পন্ন হয়। তিথিকে সোমবার রাতে ও তার ভাই পিয়াসকে পরদিন সকালে গ্রেফতার করার পর থানায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের কাছেও স্বামীকে খুন করার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন তিথি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যার পর শহরের মালসাপাড়াস্থ নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যে সুজনকে জবাই করা হয়। এর আগে দুপুরে সুজনকে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য, প্রতিবেশী মালেশিয়ান প্রবাসি শরিফুল ও মামাতো ভাই পাভেলসহ বেশ ক’জনের সঙ্গে তিথির পরকীয়া ছিল বলে সুজনের স্বজনরা জানান।

তারা জানান, মোবাইল,ফেসবুক ও ভিডিও কলের মাধ্যমে শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের সামনেই প্রেমিকদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যেত তিথিকে। নাশকতা ও ট্রেন পোড়ানো মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য সুজন বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন।

আত্মীয়দের আরও অভিযোগ, সাংসারিক ও ‘শারিরীক দুর্বলতার’ কারণে স্ত্রী দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠে। খুনের পর তিথির অস্বাভাবিক আচরণের কারণে পুলিশ তাকে ওই রাতে আটক করে।

ওসি হাবিবুল ইসলাম জানান,তিথি ও পিয়াসকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। খুনের মূলে পরকীয়া। তবে, খুনের সঙ্গে কারা জড়িত তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

সদর সার্কেল এসএসপি ফারুক আহম্মেদ বলেন,বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যেই অভিযুক্ত হোক না কেন,তাকে গ্রেফতার করা হবে।

উল্লেখ্য,মালসাপাড়া সংলগ্ন বিড়ালাকুঠির মহল্লার বাসিন্দা উম্মে সালমা তিথির সঙ্গে সুজনের ১৯৯৫ সালে প্রেম করে বিয়ে হয়। বিয়ের ক’বছর পর দাম্পত্য কলহের কারণে তাদের দু’বার ছাড়াছাড়ি হয়। পরে ২০০১ সালে তারা আবার বিয়ে করে। তাদের সংসারে ৯ বছরের একটি সন্তান আছে। সে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে।