নিখোঁজের দুই দিন পর সিএনজি অটোরিক্সা ব্যবসায়ীর ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার

রুবেল হোসেন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ঃ | শুক্রবার, জুন ৫, ২০১৫
নিখোঁজের দুই দিন পর সিএনজি অটোরিক্সা ব্যবসায়ীর ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার

নোয়াখালীর চাটখিল থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সোহেলের হাত-মুখ বাঁধা ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব করপাড়া গ্রামের ওবায়েদ উল্যার একটি পরিত্যক্ত বাগান বাড়ী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত সোহেল নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার সাহাপুর মিজি বাড়ীর মৃত আবদুল বারেকের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, গত ৩ বছর পূর্বে প্রবাস জীবন থেকে ফিরে দুইটি সিএনজি অটোরিক্সা কিনে নোয়াখালীর চাটখিলে পরিবহন ব্যবসা শুরু করেন সোহেল। গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয় সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন ও ইয়াসিন ব্যবসায়ী সোহেলের কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে আসছিল। এ নিয়ে তাদের সাথে সোহেলের বিরোধ দেখা দেয়। গত বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে দশটার দিকে সোহেল চাটখিলের আটঘর বাজারের একটি গ্যারেজে সিএনজি অটোরিক্সা রেখে নিজ বাড়ী সাহাপুরে আসার পথে নিখোঁজ হন।

এরপর  থেকে তার আত্মীয় স্বজনরা অনেক খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পাননি। (আজ) শুক্রবার সকালে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের পূর্ব করপাড়া গ্রামের ওবায়েদ উল্যার বাগান বাড়ীতে হাত-মুখ বাঁধা ক্ষত-বিক্ষত একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে সোহেলের মা আলেয়া বেগম ও বোন পারভিন আক্তার ঘটনাস্থলে এসে সোহেলের লাশ সনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সিএনজি অটোরিক্সার ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব ও চাঁদার দাবীকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারনা করছেন স্থানীয়রা।

নিহত সোহেলের বোন পারভিন আক্তার জানান, কাতার থেকে দেশে ফিরে সোহেল সিএনজি অটোরিক্সা ব্যবসা শুরু করার পর থেকে স্থানীয় সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে আসছিল। কিছুদিন আগে সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন সোহেলের একটি সিএনজি অটোরিক্স আটকিয়ে ৪০হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

এর পর বাড়ীর কাজ করার সময়ও সোহেলের কাছ থেকে চাঁদা নেয় সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন। গত পরশু দিন (বুধবার) আলাউদ্দিন বাড়ীর সামনে এসে সোহেলকে তার সাথে কথা বলার জন্য বলে যায়। এর পর থেকে সোহেলের আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি। তার ভাইকে আলাউদ্দিনই হত্যা করেছে বলে দাবী করেছেন নিহতের বোন পারভিন।

নিহতে খালাতো ভাই ইয়াছিন জানান, গত বুধবার রাতে গ্যারেজে সিএনজি অটোরিক্সা রেখে নিজ বাড়ী সাহাপুরে যাওয়ার পথে সোহেল নিখোঁজ হয়। চাঁদা না পেয়ে তার ভাইকে স্থানীয় সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন ও ইয়াছিন পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে বলে ধারনা তার।
চাটখিল থানার এসআই আবদুল বাতেন জানান, গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ী যাওয়ার পথে ব্যবসায়ী সোহেল নিখোঁজ হয়। শুক্রবার সকালে খবর পাই পার্শ্ববর্তী রামগঞ্জের করপাড়ার একটি পরিত্যক্ত বাগান বাড়ীতে ওই ব্যবসায়ীর হাত-মুখ বাঁধা ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া গেছে।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, সন্ত্রাসীরা গত বুধবার রাতে ব্যবসায়ী সোহেলকে পার্শ্ববর্তী নোয়াখালীর চাটখিল থেকে অপহরণ করে হত্যার পর তার লাশ রামগঞ্জের করপাড়ায় একটি পরিত্যক্ত বাগান বাড়ীতে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে (আজ) শুক্রবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এবিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান তিনি।